ফেনী জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত – দর্শনীয় স্থান ও ঐতিহ্যবাহী খাবার

ফেনী জেলা সাধারনত মহিষের দুধের ঘি, খন্ডলের মিষ্টি এবং সেগুন কাঠ, ঐতিহাসিক স্থান ও প্রাকৃতিক সৌন্দয্যের জন্য বিখ্যাত।

চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্ভুক্ত ফেনী জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। ১৯৮৪ সালে এই জেলাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। জেলাটির বর্তমান আয়তন ৯২৮.৩৪ বর্গ কিলোমিটার। ফেনী জেলার পুরাতন নাম ছিল শমশের নগর। ফেনী বাংলাদেশের ৬৪তম জেলা।

১৯৮৪ সালের পূর্বে এটি নোয়াখালী জেলার একটি মহকুমা ছিল। বর্তমানে এ জেলায় ছয়টি উপজেলা, ও পাঁচটি পৌরসভা রয়েছে। ফেনী জেলার উত্তরে কুমিল্লা জেলা ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, দক্ষিণে নোয়াখালী জেলা, চট্টগ্রাম জেলা ও বঙ্গোপসাগরের মোহনা, পূর্বে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য এবং পশ্চিমে নোয়াখালী জেলা

প্রশাসনিকভাবে এটি একই সাথে ফেনী জেলা এবং ফেনী সদর উপজেলার সদর। ২২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ছোট এবং শান্ত জেলাটির জনসংখ্যা ১৫৬,৯৭১ জন। ফলে ফেনী জেলা এখন বাংলাদেশের ২৭তম বৃহত্তর শহর।

উন্নয়ন ও ঐতিহ্যের কারণে ফেনী দেশের বিখ্যাত একটি জেলা। দ্রুত বর্ধনশীল নগরাঞ্চলগুলোর মধ্যে অন্যতম ফেনী জেলা। এই জেলার ইতিহাস সংস্কৃতি ও সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের কৃষ্টিতে পরিপূর্ণ। দশ হাজার বছর আগে এ জায়গায় লোকবসতি ছিলো বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।

ফেনী জেলার নাম নিয়ে প্রচুর জনশ্রুতি রয়েছে, রয়েছে বিভিন্ন মতবাদ। ফেনী নদীর নামানুসারে এ অঞ্চলের নাম রাখা হয়েছে ফেনী। মধ্যযুগে কবি-সাহিত্যিকদের লেখায় একটি বিশেষ নদীর স্রোতধারা ও ফেরী পারাপারের ঘাট হিসেবে ফনী শব্দের ব্যবহার পাওয়া গেছে। ধারনা করা হয় আদি শব্দ ‘ফনী’ মুসলমান কবি ও সাহিত্যিকদের ভাষায় ফেনীতে পরিণত হয়েছে।

ফেনী জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত

ফেনী জেলা সাধারনত মহিষের দুধের ঘি, খন্ডলের মিষ্টি, সেগুন কাঠ, ঐতিহাসিক স্থান ও প্রাকৃতিক সৌন্দয্যের জন্য বিখ্যাত।

  • খাবার: ফেনী জেলা তার সুস্বাদু খাবারের জন্য পরিচিত। এর মধ্যে রয়েছে মহিশের দুধের ঘি, খন্ডলের মিষ্টি, এবং বিভিন্ন খাবার।
  • ঐতিহ্য: ফেনী জেলা তার সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের জন্য বিখ্যাত। এর মধ্যে রয়েছে প্রতাপপুর জমিদার বাড়ি, চাঁদগাজী ভুঞাঁ মসজিদ, এবং জগন্নাথ কালী মন্দির।
  • প্রকৃতি: ফেনী জেলা তার মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। এর মধ্যে রয়েছে ফেনী নদী, পাথরঘাটা সৈকত, এবং সুন্দরবন।

আরও পড়ুন:

ফেনী জেলার বিখ্যাত স্থান

ফেনী জেলার বিখ্যাত স্থানগুলো হচ্ছে, বিজয় সিংহ দিঘী, প্রতাপপুর জমিদার বাড়ী, সাতমথ, চাঁদগাজী মসজিদ, শর্শাদী শাহী মসজিদ, জগন্নাথ কালী মন্দির ইত্যাদি।

ভৌগলিক অবস্থানের কারনে ফেনী জেলায় বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক নিদর্শন সমৃদ্ধ পর্যটন এলাকা রয়েছে। এছাড়াও এই জেলায় সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নির্মাণ করা হয়েছে বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র। আজকে আপনাদের সামনে তুলে ধরবো ফেনী জেলার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি দর্শনীয় স্থান সর্ম্পকে।

১. ফেনী নদী

ফেনী নদী বাংলাদেশের পরিচিত নদী গুলার মাঝে অন্যতম। যে নদীর নামানুসারে এই জেলাটির নামকরন হয়েছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে। নদীটি ফেনী, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম জেলার উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে। এই নদীর উৎস ত্রিপুরায়। এই নদীতে সারা বছর নৌকা চলাচলের উপযোগী থাকে। এই নদীর দুপাশের নয়নাভিরাম দৃশ্য সবাইকে মুগ্ধ করে। নৌকা ভ্রমণের জন্য ফেনী নদী দারুন একটি স্পট।

২. বিজয় সিংহ দিঘী

জেলার ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন গুলোর মধ্যে বিজয় সিংহ দিঘি সবথেকে বেশি উল্লেখযোগ্য। এই দিঘি বাংলার সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা বিজয় সেন খনন করেন। ফেনী শহর থেকে ২ কিলোমিটার পশ্চিমে ফেনী সার্কিট হাউজের সামনে অবস্থিত।

শহর থেকে কাছে হওয়ায় অবসরের দিন গুলোতে মানুষের ভীড় বেশি হয় এই স্থানে। এই দীঘির তীর নানা রকমের উঁচু বৃক্ষ দ্বারা শোভিত। এগুলো দীঘির সৌন্দর্যকে আরো বৃদ্ধি করেছে। জলজ বাতাস, পানির কলকল শব্দ, চারদিকে গাছগাছালির ছায়া সব মিলিয়ে অসাধারণ এক চিত্র।

৩. প্রতাপপুর জমিদার বাড়ী

এই প্রাচীন সম্পদশালী জেলার আরও একটি ঐতিহ্যবাহী পুরাকীর্তি হলো “প্রতাপপুর জমিদার বাড়ী”। ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার প্রতাপুরে অবস্থিত এই প্রাচীন ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ীটি অবস্থিত। স্থানীয়দের কাছে এটি প্রতাপপুর বড় বাড়ী বা রাজবাড়ী নামে পরিচিত।

এই বাড়ীটির বড় আকর্ষন হলো এর বিশালতা। জানা যায়, ১৮৫০ কিংবা ১৮৬০ সালে ১৩ একর জমির ওপরে নির্মাণ করা হয়েছিল এই বাড়ীটি। এই জমিদার বাড়ীর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন রাজকৃষ্ণ সাহা কিংবা রামনাথ কৃষ্ণ সাহা। আশেপাশের সব জমিদারের মধ্যে এই বাড়ীর কর্ণধার ছিলেন বেশি প্রভাবশালী।

বাড়ীটিতে ১০ টি সুবিশাল ভবন ও ১৩ টি পুকুর রয়েছে। তার মধ্যে ৫ টি পুকুরই সুন্দর ঘাট বাধানো। এই বাড়ীটির মালিকানা এখনও বহন করে আসছে জমিদারের বংশধরেরা। তাই বাড়ীটি সরকারি মালিকানাধীন হতে পারেনি, ফলে এই বাড়ীর রক্ষণাবেক্ষণ কাজও হচ্ছে না।

৪. বিলোনিয়া স্থলবন্দর ফেনী

বিলোনিয়া স্থলবন্দর ফেনীর পশুরাম জেলার অবস্থিত। এটি বাংলাদেশের ১৭ তম স্থলবন্দর। ২০০৯ সালের ৪ অক্টোবর এ স্থলবন্দরটি চালু হয়। প্রতিদিন দর্শনাথীদের আনাগোনায় মুখর থাকে এ স্থলবন্দর।

৫. মহুরী প্রজেক্ট

মহুরী প্রজেক্ট ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলায় অবস্থিত। এটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই সেচ প্রকল্প। এটির নির্মান কাজ ১৯৭৭-৭৮ অর্থ বছরে শুরু হয়ে ১৯৮৫-৮৬ অর্থবছরে শেষ হয়। ফেনী নদী, মুহুরী নদী এবং কালিদাস পাহালিয়া নদীর সম্মিলিত প্রবাহে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে একটি বৃহদাকার পানি নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরী করা হয়। শীত কালে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক ভ্রমণ পিপাসু লোক এবং পর্যটক এখানে বেড়াতে আসে।

৬. চাঁদগাজী মসজিদ

মোগল আমলের একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি ছিলেন চাঁদগাজী ভূঞা। তার নামানুসারে ছাগলনাইয়া উপজেলা সদরের অদূরে চাঁদগাজী বাজারের কাছে মাটিয়া গোধা গ্রামে অতীত ইতিহাসের সাক্ষী হিসাব অবস্থান করছে চাঁদগাজী ভূঞা মসজিদ। মধ্যযুগের রীতি অনুযায়ী চুন, সুডকী ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ইট দ্বারা তৈরী এ মসজিদের দেয়ালগুলো বেশ চওড়া । মসজিদের ছাদের উপর তিনটি সুদৃশ্য গম্বুজ। মসজিদের সামনে একটি কালো পাথরের নামফলকে এ মসজিদের নির্মানকাল ১১১২ হিজরী সন উল্লিখিত আছে।

৭. শর্শাদী শাহী মসজিদ

ফেনী জেলায় মোঘল শাসন আমলের ইসলামি স্থাপত্য শৈলির একমাত্র নিদর্শন হিসেবে বিদ্যমান আছে “শর্শাদী শাহী মসজিদ”। এই মসজিদটি প্রায় ৪৫০ বছরের পুরোনো। চুন,সুরকি ও ইট দিয়ে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল যার দেয়ালের পুুরুত্ব ৫ ফুট।

বর্তমান সময়ে এত পুরু দেয়ালের নির্মাণ শৈলির কথা কেউ কল্পনাও করতে পারে না। দেয়ালে আছে নানা কারুকার্য খচিত নকশা। বর্তমানে এই মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্মতত্ত অধিদপ্তর ও জাদুঘরের অধীনে পরিচালিত পুরাকীর্তি সংরক্ষিত এলাকা।

ফেনী জেলার ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদটি ফেনী সদর উপজেলার শর্শাদী ইউনিয়নে অবস্থিত। স্থানীয় লোকজন সহ বাংলাদেশ বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ প্রাচীন নিদর্শন সমৃদ্ধ এই মসজিদটি ভ্রমন করতে আসেন প্রতিনিয়ত।

৮. জগন্নাথ কালি মন্দির

শমসের গাজী তার বাল্যকালের লালন কর্তা জগন্নাথ সেনের স্মৃতিতে একটি মন্দির ও কালি মূর্তি নির্মাণ করেন। মূর্তিটি ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর বাসস্ট্যান্ড’র পূর্ব পার্শ্বে অবস্থিত।

জগন্নাথ মূর্তির দর্শনীয় বিষয় হচ্ছে, এর দুইনেত্র প্রকোষ্ঠে বসানো লাল বর্ণের পাথর। অন্ধকারে পাথরগুলো আলো বিকিরণ করে। প্রতিদিন দুর-দুরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এটি দেখতে আসেন।

৯. সাত মথ

সাত মথ ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় অবস্থিত। এটি ছাগলনাইয়ার হিন্দু জমিদার বিনোদ বিহারি আট একর জায়গার উপর নির্মান করেন। এই মঠটি বাংলাদেশ প্রত্নতাত্তিক অধিদপ্তরের এর তাকিকা ভুক্ত একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা।

১০. সেনেরখিল জমিদার বাড়ী

প্রায় পাঁচশত শতাব্দী আগে জমিদার উপেন্দ্র সেনগুপ্ত চৌধুরী ও মহেন্দ্র সেনগুপ্ত চৌধুরী মিলে এই জমিদার বাড়ীটি প্রতিষ্ঠা করেন। জমিদার বাড়ীটি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের জন্য ইতিহাসের খাতায় নাম লিখিয়েছে। কারণ এই বাড়ীটিতে মাষ্টারদা সুর্যসেন ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের কয়েকবার এসে আশ্রয় নিয়েছেন।

এছাড়াও এই জেলার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে আরো আছে শমসের গাজীর বাঁশের কেল্লা রিসোর্ট (ছাগলনাইয়া), ‪শিলুয়ার শীলপাথর (ছাগলনাইয়া), রাজাঝীর দীঘি (ফেনী সদর), দোলমন্দির (ফুলগাজী), চৌধুরী বাড়ী মসজিদ (দাগনভূঞা), কাজিরবাগ ইকো পার্ক (ফেনী সদর), কৈয়ারা দীঘি (ছাগলনাইয়া), বাঁশপড়া জমিদার বাড়ী (ছাগলনাইয়া), কালীদহ বরদা বাবু জমিদার বাড়ী (ফেনী সদর) ইত্যাদি।

ফেনী জেলার বিখ্যাত খাবার

ফেনী জেলার বিখ্যাত খাবারগুলো হচ্ছে এখনকার খন্ডলের মিষ্টি, মহিষের দুঘের ঘি, পানতুয়া পিঠা, খিলি পিঠা ও শুটকি ভুনা।

নিজস্ব অথেনটিক স্বাদের রন্ধন প্রনালীর জন্য ফেনী জেলার মতো প্রতিটি জেলায় আলাদা আলাদা ভাবে নিজের ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছে। তাইতো পর্যটকেরা বেড়াতে আসলে তাদের মূল আকর্ষণ থাকে বাঙালির বৈচিত্রময় খাওয়া দাওয়ার উপর। চলুন এবার জেনে নিই ফেনী জেলার জনপ্রিয় কিছু খাবার সম্পর্কে।

১. খন্ডলের মিষ্টি

ফেনী জেলার মিষ্টান্ন জাতীয় খাবারের মধ্যে সবথেকে ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় খাবার খন্ডলের মিষ্টি। খন্ডলের মিষ্টির ইতিহাস ৫০ বছরের পুরোনো। ফেনী জেলার খন্ডল নামক স্থানে এই মিষ্টি তৈরির প্রচলন শুরু হয়েছিল, আর উৎপত্তি স্থলের নামানুসারে এই মিষ্টির নামকরণ করা হয়েছে।

খন্ডলের মিষ্টি তৈরি করা হয় গরুর খাঁটি দুধের ছানা, ময়দা ও চিনির সিরা দিয়ে। সব মিষ্টিই সাধারণত ঠান্ডা করে খাওয়া হয় কিন্তু খন্ডলের মিষ্টি গরম গরম খেতেই বেশি ভালো লাগে, আর এটাই খন্ডলের মিষ্টির বিশেষত্ব।

২. মহিষের দুধের ঘি

মহিষের দুধ সংগ্রহ করে উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বাল করে দুধ থেকে ঘি আলাদা করা হয়। ফেনী জেলায় বানিজ্যিক ভাবে মহিষের দুধের ঘি তৈরি করা হয়। মহিষের দুধে উচ্চমাত্রায় কোলেস্টেরল না থাকায় এই ঘি-এ কোনো ধরনের ক্ষতি হয় না। উৎপাদিত ঘি প্যাকেটজাত করে বাংলাদেশের সব জেলায় বাজারজাত করা হয়।

এছাড়াও ফেনী জেলায় বেড়াতে আসলে পর্যটকদের অনেকেই মহিষের দুধের ঘি কিনে নিয়ে যায়। উপকারিতা ও পুষ্টিগুণের জন্য মহিষের দুধের ঘি এতো বেশি জনপ্রিয়।

৩. পানতুয়া পিঠা

শীতকালে যখন ফেনী জেলার ঘরে ঘরে পিঠা পুলি খাওয়ার ধুম পড়ে যায়, তখন বিকেলের নাশতায় হালকা খাবার হিসেবে এই পিঠা তৈরি করা হয়। খুব সাধারণ উপকরণে ঝামেলা ছাড়াই বানানো যায় বলে হুটহাট বাড়ীতে মেহমান চলে আসলে নাশতা হিসেবে এই খাবারটি বানিয়ে পরিবেশন করা হয়।

উপকরণ হিসেবে প্রয়োজন হয় ডিম, ময়দা, চিনি ও সামান্য তেল। ডিম, চিনি ও ময়দা একসাথে মিশিয়ে পরিমানমত পানি দিয়ে পাতলা গোলা তৈরি করে কড়াইয়ে ডিম পোচ করে আলাদা করে তুলে রাখা হয়।

চ্যাপ্টা কড়াইয়ে গোলা দিয়ে পাতলা করে ভেজে তার উপরে পোচ করা ডিম দিয়ে পেঁচিয়ে নেয়া হয়। এভাবে কয়েকবার গোলা দিয়ে ভেজে পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে মোটা করে ভেজে কড়াই থেকে নামিয়ে পিস পিস করে কেটে পরিবেশন করা হয় মজাদার পানতোয়া পিঠা।

৪. খিলি পিঠা

ফেনী জেলার আরও একটি মজাদার ও জনপ্রিয় পিঠা হলো খিলি পিঠা। কাঁঠাল পাতায় মুড়িয়ে গরম পানির ভাষ্পের তাপে বানানো হয় এই পিঠা। পিঠা তৈরির পর দেখতে পানের খিলির মতো হয় বলে এই পিঠার নামকরণ করা হয়েছে খিলি পিঠা। তালের রস দিয়ে তৈরি করা হয় বলে একে অনেকে তালের খিলি-ও বলে।

একটি পাত্রে তালের রস, চালের গুড়া, সুজি, বেকিং পাউডার মিশিয়ে হালকা তরল করে খামির তৈরি করা হয়। সেই খামির কাঁঠাল পাতা দিয়ে মুড়িয়ে টুথপিকের সাহায্যে পানের খিলির মত তৈরি করে বড় পাত্রে গরম পানির ভাষ্পে সিদ্ধ করা হয়। সিদ্ধ হয়ে গেলে কাঁঠাল পাতা সরিয়ে গরম গরম পরিবেশন করা হয় খিলি পিঠা।

৫. শুটকি ভুনা

ফেনী জেলার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খাবার তালিকায় সবথেকে প্রিয় খাবার শুটকি ভূনা। দুপুরে গরম ভাতের সাথে শুটকি ভূনা থাকলে আর কি চাই। সাধারনত চ্যাপা, লইট্যা, ফাইস্যা, চিংড়ি শুটকি দিয়ে তৈরি করা হয় শুটকি ভূনা।

শুটকি ভালোভাবে ধুয়ে পছন্দমতো সাইজে কেটে নিয়ে বেশি করে পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ ও রসুন কেটে তেলে ভেজে তৈরি করা হয় শুটকি ভূনা। সকালে বা দুপুরের খাবারে শুটকি ভুনা এই জেলার সাধারণ একটি খাবার।

ফেনীর জনপ্রিয় খাবারের তালিকায় আরো রয়েছে- কাটা বেগুন, খোলাজা পিঠা, লেবুর কাজি, রূপচাঁদা মাছ, তেল ছাড়া শুটকির তরকারি ইত্যাদি।

দেশ-বিদেশে ভ্রমন সংক্রান্ত নিত্য নতুন তথ্য ও টিপস পেতে ভিজিট করুন GhuraGhuri.com

Similar Posts

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।